• শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা

অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেবে ‘চন্দ্রনাথ’ পাহাড়

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

পর্যটন স্পটের জন্য জনপ্রিয় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। সুবিশাল সমুদ্রের পাশাপাশি অসংখ্য পর্যটন স্পট ও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ পাহাড় এ এলাকাটিকে করেছে অনন্য। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে ও সীতাকুণ্ড বাজার থেকে চার কিলোমিটার পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবস্থান। পাহাড়টিতে যেতেই চোখে পড়ে হিন্দুদের বেশকিছু ধর্মীয় স্থাপনা ও অধিবাসীদের জীবনযাত্রার চিত্র। 

চন্দ্রনাথ পাহাড় মন্দির

কথিত আছে, নেপালের এক রাজা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বিশ্বের পাঁচ কোণে পাঁচটি শিবমন্দির নির্মাণ করেন। যেগুলো হলো- নেপালের পশুপতিনাথ, কাশিতে বিশ্বনাথ, পাকিস্তানে ভুতনাথ, মহেশখালীর আদিনাথ ও সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় সেই চন্দ্রনাথ মন্দির অবস্থিত।

চন্দ্রনাথ পাহাড়

চন্দ্রনাথ মন্দির ছাড়াও পাহাড়টিতে রয়েছে- কাছারি বাড়ি, শনি ঠাকুর বাড়ি, প্রেমতলা, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম, শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, গিরিশ ধর্মশালা, দোল চত্বর, ননী গোপাল সাহা তীর্থযাত্রী নিবাস, তীর্থ গুরু মোহন্ত আস্তানা, বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি, জগন্নাথ আশ্রম, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির,শংকরমঠ ও আশ্রম, বিশ্বনাথ মন্দির, মহাশ্মশানভবানী মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির, গয়াক্ষেত্র, জগন্নাথ মন্দির, বিরুপাক্ষ মন্দির, পাতালপুরী, অন্নপূর্ণা মন্দির ইত্যাদি।

চন্দ্রনাথ পাহাড়

চন্দ্রনাথ পাহাড় হিমালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলীয় অংশ। এটি হিমালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক ঘুরে ভারতের আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়ে ফেনী নদী পার হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে মিশেছে। এ পাহাড়ে যেতে চোখে পড়ে ছোট একটি ঝরনা। ঝরনার দু’পাশেই পাহাড়ে উঠার দুটি পথ। এরমধ্যে একটি সিঁড়ি করা, অন্যটি সম্পূর্ণ পাহাড়ি। সিঁড়ির চেয়ে পাহাড়ি পথ বেয়ে উঠা সহজ। তাই পাহাড়ে উঠতে ওই পথটিকেই বেছে নেন অনেকে।

চন্দ্রনাথ পাহাড় মন্দির

এ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা ১১৫২ ফুট বা ৩৬৫ মিটার। এটি চট্টগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ স্থান। আর স্থানটিতে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে যান পর্যটকরা। কেউ কেউ বিশাল এ পাহাড়ে উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে নিচে নেমে যান। আবার অনেকেই পাহাড় জয় করার আনন্দ নিয়ে সেখান থেকে ফেরেন।

পাহাড়ি সিঁড়ি

চন্দ্রনাথ মন্দিরে প্রতি বছর শিবরাত্রি তথা শিবচতুর্দশী তিথিতে বিশেষ পূজা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিশাল মেলা হয়। যেটি শিবচতুর্দশী মেলা নামে পরিচিত। এ মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য সাধু ও নারী-পুরুষ অংশ নেন। মেলাটি দোলপূর্ণিমা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। প্রতি বছর স্থানটিতে ১০ লাখের বেশি তীর্থযাত্রীর সমাগম ঘটে।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেভাবে যাবেন : চট্টগ্রাম শহর কিংবা ঢাকা থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে সীতাকুণ্ড বাজার। সেখান থেকে রয়েছে সরাসরি পাহাড়ের কাছে যাওয়ার অটোরিকশা।

চন্দ্রনাথ পাহাড়

চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুণ্ড: সীতাকুণ্ড এলাকাটি মহাসড়কের আওতাধীন হওয়ায় সেখানে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। এক্ষেত্রে নগরীর অলংকার মোড় কিংবা একেখান মোড় থেকে লোকাল বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড। এছাড়া কদমতলী থেকেও বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড।

ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড: ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, আরামবাগ, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এসি-ননএসি বাস পাওয়া যায়। এসব বাসে খুব সহজেই যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড। 

এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনে গিয়ে নামতে হবে ফেনী রেলস্টেশনে। এরপর রিকশা কিংবা অটোরিকশায় যেতে হবে মহিপাল বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড। 

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নামলে সেখান থেকেও বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড। তবে দূরত্ব ও সময় বিবেচনায় ফেনী রেলস্টেশনে নেমে যাওয়া ভালো।

চন্দ্রনাথ পাহাড়

কোথায় থাকবেন
সীতাকুণ্ড সদরে রাত্রিযাপনের জন্য একাধিক মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়া উন্নতমানের হোটেলে থাকতে চাইলে যেতে হবে চট্টগ্রাম শহরের অলংকার কিংবা আগ্রাবাদ এলাকায়। এছাড়াও জিইসির মোড়, স্টেশন রোড ও নিউমার্কেট এলাকায় একাধিক উন্নতমানের হোটেল রয়েছে।

চন্দ্রনাথ পাহাড়

কোথায় খাবেন
দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের জন্য সীতাকুণ্ডেই একাধিক মাঝারি মানের খাবারের হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে আল-আমিন নামে একটি রেস্টুরেন্টের বেশ সুনাম রয়েছে।  

আরো যা দেখতে পারেন
সীতাকুণ্ডের পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে- উপকূলীয় বনাঞ্চল, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক, সহস্রধারা ঝরনা, সুপ্তধারা ঝরনা, খৈয়াছড়া ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ঝরনা ইত্যাদি।