• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ৯ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা

এমন নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড আর দেখেনি পৃথিবী

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২২  

 ১৫ আগস্ট, শোকের দিন। জাতির যে শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীনতা এনে দিয়ে বাঙালির মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন, তাকেই এই দিনে সপরিবার হত্যা করে জাতিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে সামান্য সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও নারী এবং শিশুদেরও সেদিন হত্যা করেছে ঘাতকেরা। কতখানি বর্বর ও নৃশংস হলে একটি শিশুও রক্ষা পায় না! এমন নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড আর দেখেনি পৃথিবী। ইতিহাসের নৃশংসতম ও গভীর মর্মস্পর্শী সেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আজ ৪৬তম বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও ঘাতকের বুলেটে নিহত হন তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব; ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল; পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল; ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল। স্বাধীন দেশে কোনো বাঙালি তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে না—এমন দৃঢ়বিশ্বাস ছিল বঙ্গবন্ধুর। সে জন্যই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে থাকতেন তার প্রিয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর নিজ বাসভবনে। বাঙালির স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার এ বাড়িটি অসম্ভব প্রিয় ছিল বঙ্গবন্ধুর। এখানে থেকেই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে সর্বশক্তি নিয়ে ব্রতী ছিলেন। সেদিন ঘাতকদের মেশিনগানের মুখেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন অকুতোভয়। প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’ কিন্তু ঘাতকের হাত তাতে কাঁপেনি।’ এজন্য দিনটি দুঃখের পাশাপাশি লজ্জারও। প্রতিনিয়ত গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ইতিহাসবিদরা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্যকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিশ্বের কোথাও কি এমন নৃশংসতা ঘটেছে? শত্রুপক্ষের হাতে অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। কিন্তু নিজের দেশে, নিজের লোকদের হাতেই এমন হত্যাকাণ্ড? ভাবা যায় না। হাজার বছরের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর সেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করলাম কি না আমরাই, বাঙালিরাই! এ শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা নয়, বাংলাদেশের হৃদয়কে কেটে-ছিঁড়ে রক্তাক্ত করা। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে শোককে শক্তিতে পরিণত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, সেই শক্তিতেই আমরা একদিন বিশ্বমঞ্চে বাঙালি জাতি হিসেবে শির উঁচু করে দাঁড়াবো। আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বৈশ্বিক রাজনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অর্জনগুলো প্রমাণ করে শত আঘাতের শত চক্রান্তেও এই ছোট ভূখণ্ডের মানুষ যে মাথা নোয়াবার নয়। ইতিহাসও তাই বলে। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের কথা উচ্চারিত হলে যে লজ্জা আমাদের চেপে ধরে, তা থেকে কীভাবে মুক্তি পাব?