• শনিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৬ ১৪২৮

  • || ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

‘তুলে নিয়ে বিয়ে করা’ সেই তরুণীর মামলায় কলেজছাত্রের কারাবাস

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০২১  

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নাজমুল হাসান নামে এক কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে ইশরাত জাহান পাখি নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই বিয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ঘটনায় ওই তরুণীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছে ওই শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ওই তরুণীর করা যৌতুক মামলায় নাজমুল হাসানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আশিকুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইশরাত জাহান পাখির আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে পাখি নাজমুলের স্ত্রী এবং তিনি জোর করে বিয়ে করেননি বলেও জানান ওই আইনজীবী।

ওই তরুণীর আইনজীবী জানান, কলেজছাত্র নাজমুল হাসানের সঙ্গে ইশরাত জাহান পাখির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে উভয়ের সম্মতিতে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। এরপর তারা একসঙ্গে সংসার করেন। চলতি বছরের গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি কাজী অফিসে নাজমুল এবং পাখির বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হয়। সেখানে কাবিনের মোহরানার টাকা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়।

আইনজীবী আরও জানান, সে সময়ের একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়, পাখি নাজমুলকে জোর করে বিয়ে করেছেন। গত ৩ অক্টোবর নাজমুল পাখির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এতে দাবি করা হয়, ২৭ সেপ্টেম্বর নাজমুলকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় নাজমুল ঢাকায় কাজী অফিসে অবস্থান করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আসামি নাজমুল ইশরাত জাহান পাখির কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। পাখি যৌতুক না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ আনা হয়।

সোমবার এ সংক্রান্ত দালিলিক তথ্যাদি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে আদালত নাজমুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৯ অক্টোবর ইশরাত জাহান পাখি তার স্বামী নাজমুল হাসান, শ্বশুর এবং শাশুড়িকে আসামি করে পটুয়াখালী আদালতে যৌতুকের মামলাটি করেছিলেন। নাজমুলের করা মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে।

আসামি নাজমুল পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজের আবাসিক হোস্টেলে থাকেন। নাজমুল এবং পাখি উভয়ের বাড়ি জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায়।