• শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৩ ১৪২৮

  • || ১০ সফর ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

ধরা পড়ছে ভয়াবহ মাদক ‘এস্কাফ’, সেবনে নষ্ট হয় প্রজননক্ষমতা

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২১  

নতুন মোড়কে ভারত থেকে দেশে আসছে প্রজনন ক্ষমতা নষ্টকারী নতুন এক মাদক ‘এস্কাফ’। এতদিন যারা ফেনসিডিলের কারবার করতেন, তারা এখন নতুন এই মাদক কারবারে জড়িয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফেনসিডিল ও এস্কাফ মূলত একই জিনিস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সেবনে কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে পড়ে। আরেকটি বড় ক্ষতির দিক হচ্ছে, দীর্ঘদিন সেবনে নষ্ট হয়ে যায় পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাও। 

গত ২৫ জুন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) খিলগাঁওয়ের নাগদারপাড় সেতুসংলগ্ন এলাকা থেকে ১৮৪ বোতল এস্কাফ জব্দ করে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারও করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. জুয়েল, মো. হুমায়ুন, মো. সাদেক ও মো. লিটন।

ডিএমপি'র (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, আসামিরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্ত থেকে ‘এস্কাফ’গুলো সংগ্রহ করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতো। মাদকের চালানটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে সবজির পিকআপ ভ্যানে রাজধানীতে আনা হচ্ছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকের চালানটি জব্দ করে ডিবির তেজগাঁও টিম।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের আড়াল করতে ব্যবসার ধরণে পরিবর্তন এনেছে। তারই অংশ হিসেবে সবজি বিক্রেতা সেজে পিকআপ ভ্যানে করে মাদক পরিবহন করছিল। এস্কাফ প্রথমবারের মতো উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ৪ জনই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হতে মাদক সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করতো।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, এদেশে এস্কাফ একেবারে নতুন মাদক নয়। ২০১০ সাল থেকেই এটা আসছে। তবে বছর দেড়েক ধরে এই মাদকের চালান বেশি আসছে। এর প্রতি মাদক সেবনকারীদের আগ্রহ বাড়ায় দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়েই এস্কাফ বেশি আসছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, এই জেলার সীমান্ত দিয়ে এখন ফেনসিডিল আসে না বললেই চলে। এখন এর বিকল্প হিসেবে এস্কাফ আসছে। সীমান্ত এলাকায় এর দাম ফেনসিডিলের চেয়ে কম।

জানা গেছে, ভারতের ল্যাবোরেট ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাশির ওষুধ হিসেবে এই সিরাপ তৈরি করে। তবে নেশাদ্রব্য হিসেবে বহুল ব্যবহারের কারণে ভারতে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ হলেও এর উৎপাদন বন্ধ হয়নি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও এই মাদক ছড়িয়েছে।