• শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ২ ১৪২৮

  • || ০৯ সফর ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

বেবি তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে জাজিরার চাষিদের

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২০  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ মাত্র দুই বছরে বেবি তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে জাজিরা উপজেলার চাষিদের। তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন প্রায় ৬০জন চাষি। কোন প্রকার পোকার আক্রমণ না থাকায় সফল হয়েছেন তারা। বাজারে বিক্রি করেও পাচ্ছেন অর্থ। তরমুজ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই খেতেও সুস্বাদু। তাই এ তরমুজের চাহিদা অনেক।

জানা গেছে, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের মিরাশা গ্রামের মামুন শেখ পরিত্যক্ত ৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ করেন বেবি তরমুজ। কম খরচে ৭০ দিনে জমিতে ফল বড় হতে শুরু করে। প্রথমে ভয় থাকলেও ফলন আসার পর মুখে হাসি ফুটেছে। ইতোমধ্যে একেকটি তরমুজের ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতে রয়েছে প্রায় ১ হাজার তরমুজ। তরমুজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায়।

 তিনি জানান, এক সময় তিনি ধান চাষ করতেন। ধান চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় অন্য কিছু করার চিন্তা করেন তিনি। কৃষি কর্মকর্তা ও এনজিওর কর্মীরা তাকে তরমুজ চাষে উৎসাহিত করেন। পরে প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে বীজ পেয়ে নিজের জমিতে চাষ শুরু করেন। চাষ করতে তার খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা।

তিনি আরও জানান, প্রথমে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাধা দেয়। কিন্তু তিনি কোন বাধা না মেনে চাষ করেন। ফলে মাত্র ৭০ দিনের মাথায় সফলতা পান। এপর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। আরও ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।

স্থানীয় কৃষক রতন কাজি, রশিদ চোকদার ও সুমন চোকদার বলেন, এত কম খরচে ও কম পরিশ্রমে এত লাভ হয়, আগে জানতাম না। আগামীতে আমরা ব্যাপকভাবে এ তরমুজ চাষ করবো।

এসডিএস এনজিওর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. খাজি আলম জানান, শরীয়তপুরের এসডিএসের বাস্তবায়িত এবং পল্লী কর্ম সহায়ক অর্থায়নে দুই বছর যাবত অত্র অঞ্চলের কৃষকদের বেবি তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। ফসলটি দ্রুত বর্ধনশীল। অল্প সময় চাষাবাদ সম্ভব।  জাজিরা উপজেলায় প্রায় ৪০/৫০ জন কৃষক তরমুজ চাষ করেছেন। ভালো লাভবানও হচ্ছে। আশাকরি আগামীতে তরমুজ চাষে ব্যাপক আগ্রহ বাড়বে।

জাজিরা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জামাল হোসেন বলেন, উপজেলায় এ বছর ৮ হেক্টর জমিতে প্রায় ৬০ জন কৃষক বেবি তরমুজ চাষ করেছেন। ভলো ফলনও পাচ্ছেন তারা। এছাড়া জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করা হয়েছে । আমরা প্রদর্শনের মাধ্যমে বারমাসি বেবি তরমুজের উদ্যাোগ নিয়েছি। তাছাড়া কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করছি। দুই বছরেই এ ফসল বিস্তার লাভ করেছে।

শরীয়তপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমির হামজা জানান, জেলায় এ তরমুজের আবাদ বেড়েছে। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় বেবি তরমুজ চাষ করে কৃষকরা সফল হয়েছেন।