• শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১৩ ১৪৩১

  • || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা

জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তৎপর সিআইডি

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২০  

জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ইউনিট পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তথা সিআইডি। এ বিভাগের আওতায় ২০১৮ সালে খোলা হয় সাইবার পুলিশ সেন্টার শাখা। সিআইডির কর্মকর্তারা জানালেন, নারী ও শিশুসহ দেশের সব নাগরিকের জন্য সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে তারা সফলভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন।

জনবল কিংবা প্রযুক্তিগতভাবে আপাতত তাদের সক্ষমতার ঘাটতি নেই। প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে অপরাধীদের ডাটাবেজও। খুব অল্প সময়েই সক্ষমতা দেখিয়েছে সিআইডির সাইবার শাখা। তাই ভুক্তভোগী মানুষও তাদের প্রতি ঝুঁকছে বেশি।

সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিকে এই শাখায় অভিযোগ আসতো খুব কম। কিন্তু সিআইডির পক্ষ থেকে নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিশন নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরুর পর এখন অভিযোগ আসছে শত শত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী মানুষ আসছে তাদের কাছে। সিআইডির সাইবার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, তাদের ফেসবুক পেজে গত ১ সেপ্টেম্বর (২০২০) থেকে ১৮ নভেম্বর (২০২০) পর্যন্ত অভিযোগ আসে ৩৩৬টি। এরমধ্যে ৯টি অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে। ৫টি অভিযোগ বাতিল করা হয়েছে। ২টি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের থানায় মামলা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করেছেন ৭ হাজার ২০ জন ভুক্তভোগী। অভিযোগ জানাতে ফোন করেছে ৮ হাজার ৪৮৬ জন। ফোনেই সমাধান হয়েছে ৫২৮টি অভিযোগের। অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে ৩৩৬টি। এরমধ্যে হয়রানির বিষয়ে ৮৯টি, বিকাশ প্রতারণা নিয়ে ৪৯টি এবং অনলাইন বাজার নিয়ে ১০৩টি অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। ডলার প্রতারণার ৩০টি, নাইজেরিয়ান প্রতারকদের বিষয়ে ৫টি এবং অন্যান্য বিষয়ে ৬০টি অভিযোগও আমলে নেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ঘটনা তুচ্ছ হলে কিছু অভিযোগ গ্রহণ করে না সিআইডির এই সাইবার টিম।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাইবার বিভাগসহ সিআইডির সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে নভেম্বর পর্যন্ত মামলার পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৬৪৬টি। এ সময়ে তদন্ত শেষে ৫৪টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১১৮টি মামলার।

সিআইডির কর্মকর্তারা আরও জানান, এ বছরের মার্চের দিকেই দিনে গড়ে অভিযোগ ছিল ৫ থেকে ৬ শ’। সে সংখ্যা এখন ঠেকেছে প্রায় আড়াই হাজারে।

প্রতিদিন নতুন নতুন অভিযোগ যোগ হচ্ছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে। যেগুলোর বেশিরভাগই অনলাইন প্রতারণা, বিকাশ ও তরুণীদের ব্ল্যাকমেইলিং নিয়ে। সাইবার অপরাধীদের ডাটাবেজও সংরক্ষণ করা হচ্ছে সিআইডিতে। ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন ফরেনসিক নমুনা রেখে দেওয়া হয়। যাতে পরে কেউ আবার একই অপরাধ করে ধরা পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) আশরাফুল আলম বলেন, ‘সাইবার অপরাধ কয়েক ধরনের। হ্যারাসমেন্টের অভিযোগ আসে সাধারণত স্কুল থেকে কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই অপরাধের সংখ্যা কিছুটা কম। প্রযুক্তি ব্যবহারকারী টিনএজারদের সাইবার জগতে আরও সাবধানে থাকা উচিত। তাছাড়া বিকাশসহ অন্যান্য প্রতারণার ক্ষেত্রে যখনই কেউ মনে করেন তিনি ফাঁদে পড়তে যাচ্ছেন তখনই অভিযোগ করা প্রয়োজন।’

একই বিষয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশের সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ‘সাইবার অপরাধ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। মানুষের প্রযুক্তি জ্ঞানের ঘাটতির সুবিধা নিচ্ছে অপরাধীরা। কয়েকজন অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে অপরাধ দমন করা কঠিন কাজ। এখানে মানুষের সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর হবে।’

কামরুল আহসান আরও বলেন, অভিযোগের ধরন অনুযায়ী নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করে। সাইবার অপরাধগুলো সাধারণত একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করে করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটা ডিভাইসের আলাদা ফরেনসিক পরীক্ষা করে প্রমাণ করতে হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এসব মামলায় কোনও কিছু করাও সম্ভব হয় না। প্রতিটি অভিযোগ গড়ে ১৫ দিনের মতো সময় লেগে যায়। কোনও ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৫ মাসও লাগে। তবে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে যেগুলো আমরা ফোনেই সমাধান করি।

সাইবার অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত কোনও সঙ্কটে রয়েছে কিনা সিআইডি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন কোনও সঙ্কট এখন নেই। এ মুহূর্তে যেগুলো আছে সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করলে সমস্যা থাকবে না। তবে যে হারে অপরাধ বাড়ছে তাতে সিআইডির পক্ষ থেকে সাইবার স্টেশন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেটা নিয়েও কাজ চলছে।’

সাইবার সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান আরও জানান, সিআইডি সাইবার সেন্টারে যে জনবল রয়েছে সেটা এ মুহূর্তে পর্যাপ্ত। এর বেশি হলে যে খুব ভালো সেবা দিতে পারবো বিষয়টা এমন না। জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহারটা আমরা করতে চাই।